জকিগঞ্জ গোলাপগঞ্জ কার মূখে প্রতিক্ষিত শেষ হাসি

মোঃইবাদুর রহমান জাকির, সিলেট : প্রায় তিন সপ্তাহের প্রচারণা শেষে আজ সারাদেশে তৃতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আজ দেশের বিভিন্ন পৌরসভার সাথে সিলেটের জকিগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ পৌরসভায়ও অনুষ্ঠিত হচ্ছে ভোটযুদ্ধ।

শুরু থেকে দুই পৌরসভায় উত্তাপ ছড়িয়ে আসছিলেন বড় দু’দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। দল থেকে বহিস্কার করেও বিদ্রোহীদের সরানো যায়নি নির্বাচন থেকে। তাই শেষ সময়ে দুই পৌরসভায় ছিল একই আলোচনা- ‘মেয়র পদে কে হাসছেন প্রতিক্ষিত শেষ হাসি, বিদ্রোহী না দলীয় প্রার্থী’। তবে উৎসুক সিলেটবাসীকে সেই উত্তর জানতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে আজ ভোট গণনা শেষে ফল ঘোষণা পর্যন্ত।

 

জকিগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে নির্বাচন করছেন ৮ জন মেয়র প্রার্থী। এবারও আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান মেয়র বীরমুক্তিযোদ্ধা খলিল উদ্দিন। তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হন উপজেলা আওয়মী লীগের প্রচার সম্পাদক ফারুক আহমদ ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আবদুল আহাদ।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় সংগঠন থেকে বহিস্কৃত হন ফারুক ও আহাদ। কিন্তু ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়াননি তারা।

এছাড়া বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ। তার সাথে বিদ্রোহী হয়ে মাঠে নামেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন হীরা। হীরাকেও দল থেকে বহিস্কার করেছে বিএনপি, কিন্তু নির্বাচনে থেকে গেছেন তিনি।

এর বাইরে জাতীয় পার্টি থেকে সাবেক পৌর কাউন্সিলর আবদুল মালেক, ফুলতলী পীরের দল থেকে মাওলানা হিফজুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জাফরুল ইসলাম।

 

ভোটাররা বলছেন, নির্বাচনের শুরুতে যেখানে মনে হয়েছিল শেষ লড়াই হয়তো বড় দুইদলের প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। প্রতীকের জোয়ারে ভেসে যাবে বিদ্রোহীদের প্রতীক।

কিন্তু শেষ সময়ে এগিয়ে গেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফারুক আহমদ ও গেল বার নির্বাচনে দ্বিতীয় হওয়া মাওলানা হিফজুর রহমান।

পিছিয়ে নেই আওয়ামী লীগের অপর বিদ্রোহী আবদুল আহাদও। নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের সাথে বেশ ঠেক্কাই দিচ্ছেন তারা।

 

তবে শেষ সময়ে এসে নৌকা প্রতীকে জনসমর্থন আরো বেড়েছে বলে দাবি আওয়ামী লীগ নেতাদের। বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাক আহমদ প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জকিগঞ্জ পৌরসভায় নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করছেন। তিনি জকিগঞ্জ পৌরসভার ভোটারও। তিনি মনে করেন, উন্নয়নের স্বার্থে এবারও ভোটাররা নৌকার পক্ষে রায় দেবেন।

 

এদিকে, গোলাপগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চারজন প্রার্থী। পৌরসভাটিতে বিএনপি একক প্রার্থী দিতে পারলেও আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী হয়েছেন তিনজন। দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রুহেল আহমদ।

তার সাথে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে মাঠে নামেন বর্তমান মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাবেল এবং সাবেক মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু।

দলের অবাধ্যতার জন্য বহিস্কার হয়েও তারা ছাড়েননি ভোটের মাঠ। ভোটারদের দেয়া তথ্যমতে, এ পৌরসভায়ও দলীয় প্রতীক নৌকা ও ধানেরশীষ ছাড়িয়ে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী রাবেল ও পাপলু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here