কেশবপুর পৌরসভায় উন্নয়নে বেড়েছে নাগরিক সুবিধা

276
কেশবপুর পৌরসভায় উন্নয়নে বেড়েছে নাগরিক সুবিধা

মশিয়ার রহমান, কেশবপুর (যশোর)  যশোরের কেশবপুর পৌরসভায় গেল ৫ বছরে ব্যাপক উন্নয়নে বদলে গেছে শহরচিত্র। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের রাস্তা, ফুটপাথ, ড্রেনসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত প্রায় ৫০ কোটি টাকার দৃশ্যমান উন্নয়নে বেড়ে গেছে নাগরিক সুবিধা।

পৌর এলাকার দীর্ঘ ২ যুগের জলাবদ্ধতার সমাধান বর্তমান মেয়রের একটি যুগান্তকারি পদক্ষেপ।
এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীতে পৌরসভা হবে আরও নান্দনিক।

যশোর জেলার কেশবপুর একটি ঐতিহ্যবাহী জায়গা। এখানে বিশ্ববরেণ্য মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত, প্রখ্যাত নাট্যকার, চিত্রাভিনেতা ও লেখক ধীরাজ ভট্টাচার্য্য, কথা সাহিত্যিক মনোজ বসু, মানকুমারী বসুর জন্ম। এ শহরে পৃথিবীর বিখ্যাত কালোমুখো হনুমানের আবাসস্থল। এখানে ভরতের দেউল, মির্জানগর হাম্মামখানা, বড়পীর খান জাহান আলীসহ বহু পীরের আবাসস্থল।

এ সমস্ত ঐতিহ্যবাহী জায়গায় দেশ বরেণ্য কবি সাহিত্যিক, পর্যটকরা যাতায়াত করে থাকেন। সেই শহরকে আকর্ষণীয় করতে ১৯৯৮ সালে কেশবপুরের সাবেক সংসদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এএসএইচকে সাদেক কেশবপুর পৌরসভা গঠন করেন।

এ পৌরসভাটি ১ম শ্রেণীর হলেও গেল ১৫ বছরে দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন হয়নি। ২০১৫ সালের পৌরসভা নির্বাচনে রফিকুল ইসলাম মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি গত ৫ বছরে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ব্যাপক উন্নয়ন করায় বদলে গেছে শহরচিত্র। ইউজিআইআইপি-৩, বার্ষিক উন্নয়ন সহায়তা, এলজিএসপি প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১‘শ ৭৭টি রাস্তার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এরমধ্যে কার্পেটিং, আরসিসি, সিসি, সোলিং রাস্তা রয়েছে। পৌর এলাকার পানি নিষ্কাশনে ইউজিআইআইপি-৩ প্রকল্পে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২টি ড্রেন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যারমধ্যে আরসিসি ড্রেন ২টি ও আইইউআইডিপি প্রকল্পের ৭টি ক্রসড্রেন রয়েছে। পৌর এলাকার মসজিদ-মন্দিরে ১ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন করা হয়েছে। পৌর শহরে জলবায়ু প্রকল্পের আওতায় ৬৪টি স্ট্রিট লাইট স্থাপণসহ বিভিন্ন সড়কে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সোলার ও স্ট্রিট লাইট স্থাপণ করায় আলোকিত হয়েছে অলিগলি।

কেশবপুর আর্সেনিক প্রবন এলাকা হওয়ায় মেয়র রফিকুল ইসলাম পৌর এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ৩টি উৎপাদন গভীর নলকুপ, ১টি বুস্টার পাম্প ও ২০ কিলোমিটার পানির লাইনের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছেন। পৌর এলাকার যুব মহিলাদের আত্নসামাজিক উন্নয়নে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, দর্জি ও নক্সিকাঁথা প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল বোর্ড স্থাপণ, মাইকেল গেটের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি, মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের ডিকশনারী প্রদান ও হাসপাতালে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহসহ ৪টি স্যানিটারী ল্যাট্রিন নির্মাণ করা হয়েছে।

করোনা মোকাবিলায় স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ উপজেলা পরিষদ, পৌরসভার রাজস্ব তহবিল, মেয়রের ব্যক্তিগত ও স্বউদ্যোগে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১৫ হাজার ৮‘শ ১৩ পরিবারের মাঝে বিভিন্ন সময়ে পুষ্টিকর খাদ্য, নগদ আর্থিক সহায়তা ও শিশু খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া গত ৫ বছরে পৌর এলাকার অসহায় ও দুস্থ ৩ হাজার ১‘শ ১৬ জনের মধ্যে বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও মাতৃত্বকালিন ভাতা প্রদান করায় বেড়ে গেছে নাগরিক সুবিধা। গত ৫ বছরে শহরের হাট-বাজারের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। মেয়রের সদিচ্ছায় পুরনো গরুহাটে সকাল-সন্ধ্যা বাজার স্থাপণ, পইকারি মাছ বাজার চান্নি, চাউল চান্নি ও ধানহাটের জলাবদ্ধতা নিরসনসহ দৃশ্যমান উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে।

পৌর এলাকার মধ্যকুলের বাসিন্দা আজিজুর রহমান বলেন, মধ্যকুল ও হাবাসপোল এলাকা দীর্ঘ ২ যুগ ধরে জলাবদ্ধ ছিল। প্রতি বর্ষা মৌসুমে তার এলাকার মানুষের বসতভিটায় পানি উঠে য্ওয়ায় বাসিন্দাদের মানবেতর জীবন যাপণ করতে হতো। বর্তমান মেয়রের প্রচেষ্টায় নদী খনন কাজ সম্পন্ন হওয়ায় তার এলাকা জলাবদ্ধাতার অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়েছে।

এ ব্যাপারে কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম বলেন, আগামীতে তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণে নান্দনিক ডিজিটাল মডেল পৌরসভা গড়ে তোলা হবে। বাসযোগ্য নগরায়ন, বিনোদনের পর্যপ্ত ব্যবস্থা, যানজটমুক্ত পরিকল্পিত শহর স্থাপণে বাইপাস সড়ক, নদীপাড়ে ব্লক বসানোসহ চলাচলের সড়ক নির্মাণ করা হবে। এছাড়া তিনি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আত্নসামাজিক উন্নয়ন ঘটিয়ে নাগরিকদের মধ্যে আয়ের সমতা বিধানের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here