যশোরের  শার্শা উপজেলার বনমান্দার বিলে নিধন হচ্ছে অতিথিপাখি

488
নিধন হচ্ছে অতিথিপাখি

বজলুর রহমান (যশোর)শার্শা প্রতিনিধি: প্রকৃতিতে শীতের আমেজ পড়তে না পড়তেই অতিথি পাখির
কলতানে মুখরিত হচ্ছে শার্শা উপজেলার বনমান্দারবিল অঞ্চল। প্রকৃতির অপরূপ রূপে সৌন্দর্যের আলপনা
আকঁছে অতিথি পাখি। কিন্তু নিধন হচ্ছে অতিথিপাখি, যা বেআইনি ও পরিবেশের জন্য হুমকি।

শীত মৌসুমজুড়েই দেখা যায় সাদা-কালো বক, বালিহাঁস, মাছরাঙ্গা, সারস, চাকলা, ডাহুক পানকৌড়িসহ দেশি-বিদেশি অসংখ্য পাখি।

পানি নেমে যাওয়ায় যশোরের  শার্শা উপজেলার বনমান্দার বিলে,খাল-বিল, জলাশয় গুলোতে দেখা মিলছে পুঁটি,
খলসে, দারকেসহ ছোট বড় নানা ধরনের অসংখ্য মাছ। উপযুক্ত পরিবেশ এবং এসব মাছ খাওয়ার লোভেই নানা প্রজাতির অতিথি পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে আশ্রয় নিচ্ছে শার্শার ডিহি ইউনিয়নের  বনমান্দার বিলে।

মুক্ত আকাশে ডানা মেলে ছুটে চলছে এক বিল থেকে আরেক বিলে। অপরূপ সাজে সেজে উঠছে প্রকৃতি।
মাছ, দিগন্তজোড়া বিল, আর অতিথি পাখি মিলে এখানে প্রকৃতি সেজেছে অপরূপ সাজে।
কিন্তু সর্বনাশা পাখি শিকারিরা পাখিদের এমন অবাদ বিচরণে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা বিষটোপ-বড়শি ও বিশেষ ধরনের জালসহ নানা রকম ফাঁদ পেতে নির্বিচারে শিকার করছে এসব অতিথি পাখি।
ফলে নিধন হচ্ছে অতিথিপাখি, যা খুবই বেদনাদায়ক।

প্রতিদিন শিকারিরা এভাবেই বনমান্দার বিলের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে সারি সারি করে ফাঁদ পেতে এবং বিষটোপ-বড়শি দিয়ে অবাধে সাদা বক, বালিহাঁস, মাছরাঙ্গা, সারস, পানকৌড়িসহ বিভিন্ন অতিথি পাখি শিকার করছে। বিকেল থেকে গভীর রাত আর ভোর থেকে সকাল আটটা পর্যন্ত এসব পাখি শিকার চলছে।

আরো পড়ুন: যুদ্ধ নয় চাই বন্ধুত্ব,তবে মোকাবিলার শক্তি যেন অর্জন করতে পারি

নিধন হচ্ছে অতিথিপাখি

শুক্রবার(৬নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে দেখা যায়, শিকারির জালে বন্দি প্রায় শতাধিক বক, পানকৌড়ি
প্রকাশ্যে হাটে নেয়া হচ্ছে বিক্রির জন্য। রাতের শেষ প্রহর থেকে সকাল আটটা পর্যন্ত শিকার করা হয়েছে
এসব পাখি। কেউ কেউ এসব পাখি হাটবাজারে ফেরি করেও বিক্রি করছে, আবার কেউবা বাসায় গিয়ে
বিক্রি করছে। প্রতিটি বক ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা, বালিহাঁস ৩০০-৪০০ টাকা এবং চাকলা পাখি
প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৬০ টাকায়।

কয়েকজন পাখি শিকারি জানান, তারা শার্শা উপজেলার বনমান্দার বিলের বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠে মাঠে খুঁটি পুঁতে কলাপাতা, খেজুর ডাল দিয়ে বিশেষ কায়দায় তৈরি করা ফাঁদের সামনে একটি বাঁশের মগডালে একটি শিকারি বক রাখা হয়। আকাশ থেকে বকের ঝাঁক ওই ফাঁদের ওপর দিয়ে দল বেঁধে উড়ে যাওয়ার সময় শিকারি তার শিকারি বকটিকে নাচাতে থাকে। একপর্যায়ে শিকারি বকটি ডাকাডাকি শুরু করলে উড়ন্ত বকের ঝাঁকটি বিশেষভাবে নির্মিত ওই ঘরের (ফাঁদ) ওপর বসে। এ সময় তারা ভেতর থেকে একে একে বকগুলোকে ধরে ধরে খাঁচায় ভরে। এছাড়া বিশেষ কায়দায় বিষটোপ দিয়েও এসব অতিথি পাখি শিকার করা হচ্ছে।

শীতের আগমনে এ অঞ্চলে ঝাঁকে ঝাঁকে আশ্রয় নেয়া নানা প্রজাতির অতিথি পাখি শিকার করছে এক শ্রেণির পাখি শিকারি। এরা বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন কায়দায় পাখি শিকার করে বাজারে বিক্রি করলেও পাখি শিকার রোধে কার্যত আইনি ব্যবস্থার কঠোর প্রয়োগ না থাকায় ক্রমশই পাখি শিকার বাড়ছে। এদের কাছে পাখি শিকার করাটা পেশা, এটাকে তারা কেও বেআইনি বা অপরাধমূলক কাজ বলে মনে করছেই না। এভাবে অবাধে পাখি শিকার ভবিষ্যতে প্রকৃতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে মনে করছেন এলাকার গুনিজনেরা। অনতিবিলম্বে অবৈধপাখি শিকারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জোরদাবী জানিয়েছে শার্শা উপজেলাবাসী।

আরো পড়ুন:
পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে নভেম্বরের শেষ দিকে খুলে দেয়া হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here