পাইকগাছা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ

358

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ॥পাইকগাছা উপজেলা আনসার প্রশিক্ষক আলতাফ হোসেন এবং উপজেলা আনসার ও ভিডিপির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশালতা খাতুনের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে চাকুরী ও বিভিন্ন ডিউটিতে দায়িত্ব দেওয়াসহ নানান অনিয়ম ও দূর্ণীতির অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীরা আনসার প্রশিক্ষক ও আনসার ভিডিপি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দাখিল করেছেন। অপরদিকে অভিযুক্তরা তাদের বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, উপজেলা আনসার প্রশিক্ষক মোঃ আলতাফ হোসেন ও উপজেলা আনসার ভিডিপির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোছাঃ আশালতা খাতুন মোটা অংকের টাকা নিয়ে প্রকৃত যোগ্যতা সম্পন্ন ও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত আনসারদের নাম বাদ দিয়ে ভুয়া কাগজপত্র তৈরী করে যাদের প্রশিক্ষন নেই, এমনকি জামাত-বিএনপির সমর্থক লোকদের নিয়োগ করিয়ে তাদেরকে ডিউটিতে পাঠান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। লস্কর ইউপির উত্তর খড়িয়া গ্রামের কেনারাম মন্ডলের পুত্র শঙ্কর কুমার মন্ডল বলেন, ২০১৯ সালের ১৮ মার্চ তারিখে খুলনার রূপসার এলাইপুর ৯ ব্যাটিলিয়ন আনসার ক্যাম্পে ইউনিয়ন ভিত্তিক আনসার কমান্ডার পদে সাক্ষাতকারের দিন ধার্য ছিল। সে কারনে ইউনিয়ন কমান্ডার ইউনুছ আলী সানার সাথে আলাপ করলে তিনি ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। এরপর উপজেলা আনসার ভিডিপির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশালতা ম্যাডামের সাথে কথা বললে, ম্যাডাম উনার স্বামী রহমানের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। এরপর ম্যাডামের স্বামী রহমানের সাথে কথা বললে তিনি ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন। কিন্তু অর্থাভাবে শঙ্কর টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর নির্দিষ্ঠদিনে শঙ্কর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এলাইপুর ৯ ব্যাটিলিয়ন আনসার ক্যাম্পে জমা দেন।

কিন্তু পরবর্তিতে শঙ্কর জানতে পারে, তার চাকুরি হয়নি। চাকুরি হয়েছে হারুন-অর-রশিদ নামে এক ব্যক্তির। অথচ সে ক্যাম্পে উপস্থিত হয়নি। এরপর আশালতা ম্যাডামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, টাকা পয়সা দিলে মাঠে না গিয়েও চাকুরী হয়। অরুনা বিবি জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আনসার সদস্যদের বাদ দিয়ে যাদের প্রশিক্ষণ নেই এমন লোকদেরকে টাকা বিনিময়ে নির্বাচন ও পূজার ডিউটিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রতিবাদ করলে ম্যাডাম বলেন, শেখ হাসিনা তোমাদের বেতন বাড়িয়ে দিয়েছে, সে জন্য আমাদের টাকা বাড়িয়ে দিতে হবে। প্রশিক্ষক আলতাফ সাহেবকে বললে বলেন, যে টাকা বেশী দিবে তাকে দায়িত্ব দিবো। চাঁদখালী ইউপির কালুয়া গ্রামের মোস্তাক আহমেদ মোড়লের পুত্র মোঃ ফিরোজ আহমেদ মোড়ল জানান, ২০০৩ সালে ট্রেনিং গ্রহণ করার পর থেকে আনসার ভিডিপি অফিসের সাথে জড়িত থেকে অস্থায়ীভাবে ইউনিয়ন আনসার কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

কিন্তু ২০১৯ সালের ১৮ মার্চ আনসার কমান্ডার পদে নিয়োগ দেওয়ার ঘোষনা দিলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপজেলায় জমা দেন এবং আলতাফকে অনুরোধ করেন। প্রথমদিকে আশা দিলেও পরবর্তীতে জাহিদ হাসান নামে এক আনসার সদস্যের বাড়িতে দাওয়াত খেয়ে তার নাম পাঠিয়ে দেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও তার প্রাপ্য হক থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয় বলে অভিযোগ করেন ফিরোজ। এমনকি জাহিদ হাসান ইনবোডিমেন্ট আনসারে চাকরি করেন বলে ফিরোজ জানান।

এমন আরো অনেক অভিযোগ রয়েছে উপজেলা আনসার প্রশিক্ষক আলতাফ হোসেন ও উপজেলা আনসার ও ভিডিপির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোছাঃ আশালতা খাতুনের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে প্রশিক্ষক আলতাফ হোসেন জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা। কেননা কোন আনসার সদস্যের নিকট থেকে টাকা নেওয়া হয়না। উল্টো অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে নানান অনিয়মের ফিরিস্তি তুলে ধরেন আলতাফ হোসেন। অপরদিকে উপজেলা আনসার ভিডিপির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোছাঃ আশালতা খাতুন মুঠোফোনে জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা। অফিসে টাকা পয়সা কারো কাছ থেকে নেওয়া হয়না কিংবা নেওয়ার প্রশ্নই উঠেনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here