পৌরসভা নির্বাচন॥ হলফ নামায় ব্যয়ের অঙ্গিকার মানছেন না প্রার্থীরা

পৌরনির্বাচনে-ব্যয়ের অঙ্গিকার
 আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবদুল ওয়াহেদ খান, বিএনপি মনোনিত প্রার্থী সাবেক মেয়র মো. মজিবুর রহমান।

প্রিয়াংকা ঘরামী, ঝালকাঠি: ঝালকাঠির নলছিটি পৌর নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেয়া নির্বাচনী হলফ নামায় অঙ্গিকার রক্ষা করছেন না প্রার্থীরা। নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবে সীমাবদ্ধতা থাকলেও নিজেদের ইচ্ছে মতো খরচ করছেন প্রার্থীরা।

আগামী ৩০ জানুয়ারি ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে পৌর এলাকায়। মেয়র প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দের পরপরই শুরু করেছেন প্রচার-প্রচারণা।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওয়াহেদ খান।
এদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন সাবেক মেয়র মো.মজিবুর রহমান। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মাওলানা মো. শাহ জালাল। আইনী জটিলতায় আটকে আছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক মেয়র মাছুদ খান।

সবশেষে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া মেয়র প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়। নৌকা প্রতীকের আবদুল ওয়াহেদ খান নিজেকে স্বশিক্ষিত লিখেছেন। তাঁর নামে ফৌজদারি কোন মামলা নেই।
তাঁর কাছে জমা টাকা রয়েছে দুই লাখ। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বাবদ পাচ্ছেন বছরে এক লাখ ৪৪ হাজার টাকা, জেলা পরিষদের সদস্য থাকাকালে বছরে পেতেন তিন লাখ টাকা। তাঁর মৎস্য খামার রয়েছে। এখান থেকে তিনি বছরে পাচ্ছেন ২৪ হাজার টাকা। ব্যাংকে তাঁর কোন জমানো টাকা নেই। স্বর্ণালংকারও নেই। তবে সোনালী ব্যাংক থেকে নিজের নামে ঋণ নেওয়া আছে তিন লাখ টাকা, যৌথভাবে আছে পাঁচ লাখ টাকা। আত্মীয়-স্বজন কিংবা অন্যকারো কাছ থেকে ধার দেনাও নেই তাঁর।
এদিকে হলফনামায় তিনি নির্বাচনে ঘরোয়া বৈঠক দেখিয়েছেন ১০টি। অথচ ২০টিরও ওপরে তাঁর নির্বাচনী বৈঠকের সময়সূচি পাওয়া গেছে। ১০টি নির্বাচনী বৈঠকে তিনি খরচ করবেন বলেছেন ১০ হাজার টাকা এবং ভেন্যুর ভাড়া ৯ হাজার টাকা। অথচ উঠান বৈঠক করছেন তিনি উন্মুক্ত স্থানে।
সেখানে ভেন্যুর কোন ভাড়ার প্রয়োজন হয় না। প্রতিটি উঠান বৈঠকে কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক লোক অংশ নিচ্ছে। তাদের একটি মিষ্টি ও একটি রুটি খাওয়ানো হচ্ছে। এতে ২০টি উঠান বৈঠকে তাঁর খাওয়া বাবদ খরচ হচ্ছে দেড় লাখ টাকা।

এদিকে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. মজিবুর রহমান কোন রকমের প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলের ১০-১৫ জন নেতাকর্মী নিয়ে শহরে হ্যান্ডবিল বিতরণ করতে দেখা গেছে। তিনি কোন উঠান বৈঠক কিংবা সভা সমাবেশ করছেন না। নির্বাচন জয়ী হবার বিষয় নিয়ে শঙ্কিত থাকায় তিনি জোরেসোরে নির্বাচনী প্রচারণায় নামছেন না বলে দলের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন। হলফনামায় তিনি এসএসসি পাস লিখেছেন। তাঁর নামে ফৌজদারি অপরাধে তিনটি মামলা রয়েছে। সবগুলো মামলাই বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় তিনি অভিযুক্ত। তাঁর পেশা ইট উৎপাদনকারী। এখান থেকে বছরে তিনি সাত লাখ ৬৬ হাজার ৬৬০ টাকা আয় করেন। নিজের কাছে নগদ ১০ হাজার টাকা রয়েছে। ব্যাংকে তাঁর কোন জমানো টাকা নেই, তবে ২০ ভরি সোনার গহনা আছে। তাঁর কৃষি জমি রয়েছে দুই একর ও অকৃষি জমি আছে ১৩ শতাংশ। তবে কৃষি ব্যাংক থেকে তিনি নিজের নামে সিসি ঋণ ৪০ লাখ টাকা ও যৌথভাবে কৃষি ব্যাংক থেকে নিয়েছেন এক লাখ টাকা। ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ তিনি এখন পর্যন্ত সময় মতো পরিশোধ করছেন।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবদুল ওয়াহেদ খান বলেন, আমার হলফনামায় যে তথ্য দেওয়া আছে, তা সম্পূর্ণ সত্য। নির্বাচনী ব্যয় আচরণবিধি অনুযায়ী করা হচ্ছে। বাড়তি কোন খরচ নেই। আমি মেয়র নির্বাচিত হলে নলছিটি পৌরসভাকে একটি আধুনিক মডেল পৌরসভা গড়ে তুলবো। দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণির মর্যাদায় নিয়ে যাবো। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, মাদক থেকে মুক্তি, সন্ত্রাস বন্ধসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. মুজিবর রহমান বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি। সরকার দলীয় প্রার্থী প্রতিদিন মোটরসাইকেল মহড়া দিচ্ছেন। এর মধ্যে আমরা যেখানে যেভাবে পারছি প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে নির্বাচনে ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে আমি শতভাগ বিজয়ী হবো।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here