বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যসহ সকল ভাস্কর্য রক্ষায় হাইকোর্টে রিট

259
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যসহ সকল ভাস্কর্য রক্ষায় হাইকোর্টে রিট

ডেস্ক রির্পোট: হাজার বছরের পরাধীনতা থেকে যিনি স্বাধীনতা এনে দিলেন যিনি, যার জম্ন না হলে আমরা স্বাধীনতা পেতাম না। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যসহ দেশের সকল ভাস্কর্য রক্ষায় হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। রিটে দেশের সব জায়গায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটে স্বরাষ্ট্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টৈদের বিবাদী করা হয়েছে।

আজ রোববার (৬ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট করেন আইনজীবী উত্তম লাহেরি।

চলতি সপ্তাহে হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে রিট আবেদনটির শুনানি হতে পারে বলে জানান তিনি।

রিটে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের নৈরাজ্য ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। সেই সাথে ভাস্কর্য নিয়ে জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া রিটে রুল জারি আর্জিও জানানো হয়েছে।

রিটের পক্ষের আইনজীবী বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। তিনি স্বাধীনতার প্রতীক। তার ভাস্কর্য অরক্ষিত থাকবে এটা হতে পারে না। তাই আমরা রিটে বঙ্গবন্ধুর সব ভাস্কর্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশনা চেয়েছি।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য রাতের অন্ধকারে ভেঙে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৬ মিনিট। দুজনই দাড়িওয়ালা। টুপি ও পাজামা-পাঞ্জাবি পরিহিত দুজনের মধ্যে একজনের পিঠে ব্যাগ ঝোলানো রয়েছে। ওই দুজন বাঁশ বেয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে উঠে হাতে থাকা লাঠি অথবা লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি ভাস্কর্যটি ভাঙচুর করে।

মাত্র এক মিনিটের মধ্যে ভাস্কর্যটি ভেঙে তারা নির্বিঘ্নে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ জানিয়ছেন। সারাদেশে প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এর আগে গত ১৩ নভেম্বর ঢাকার গেণ্ডারিয়ার ধূপখোলার মাঠে ‘তৌহিদী জনতা ঐক্যপরিষদের’ ব্যানারে এক সমাবেশ থেকে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করা হয়। একই দিনে রাজধানীর বিএমএ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে শানে রিসালাত কনফারেন্সে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মামুনুল হকও প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করেন।

পরে হাটহাজারীতে এক মাহফিলে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেয়ার কথা ছিল মামুনুলের। কিন্তু স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ তাকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিলে তাকে ছাড়াই মাহফিল হয়। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে এ ধরনের বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো।

ভাস্কর্য নিয়ে বিরোধিতাকারীদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। এই গোষ্ঠীর পেছনে বিদেশি মদত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়াও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতা করায় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সমালোচনা করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here