মিয়ানমারে মুসলিম রোহিঙ্গা গণহত্যার স্বীকৃতি চেয়ে ৩৫ সংস্থার আহ্বান

321

অনলাইন ডেক্স: মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে দেশটির সামরিক বাহিনীর চালানো নিপীড়ন, ধর্ষণ এবং হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অন্তত ৩৫টি সংস্থা। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সমর্থিত রোহিঙ্গা দাতা গোষ্ঠীগুলোর সম্মেলনের আগে এই আহ্বান জানানো হয়।

সম্মেলনের আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার ও শরণার্থীবিষয়ক ৩৫টি সংস্থা মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যা ঘটেছে; তাকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রক্তাক্ত সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। রোহিঙ্গা নারী, শিশু ও তরুণীদের নির্বিচারে ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াও ও হত্যার অভিযোগ উঠে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে।

হেগে জাতিসংঘের শীর্ষ আদালতে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যার অভিযোগের বিচার চলমান রয়েছে। গত জানুয়ারিতে জাতিসংঘের এই আদালত এক অস্থায়ী রায়ে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় জরুরি ব্যবস্থা নিতে মিয়ানমারকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত জানান, রোহিঙ্গাদের অধিকারের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রাখাইনে বসবাস করে এলেও সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীকে নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে না মিয়ানমার। এমনকি দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করতে ও অস্বীকার করেন।

মানবাধিকার ও শরণার্থী বিষয়ক ফর্টিফাই রাইটস, রিফিউজি ইন্টারন্যাশনাল ও দ্য বার্মা রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন ইউকে-সহ অন্তত ৩৫টি সংস্থা রোহিঙ্গা দাতা সম্মেলনের আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেরও কাছে একটি চিঠি লিখেছে।

চিঠিতে রোহিঙ্গাদের ওপর পরবর্তী নিপীড়ন বন্ধে দুই বছর আগে রাখাইনে সামরিক বাহিনীর অভিযানকে গণহত্যার অভিপ্রায়ে চালানো হয়েছিল বলে স্বীকৃতি দেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ৮ লাখ ৬০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গার মানবিক সহায়তায় চলতি বছরে আরও এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার চেয়েছে ইউএনএইচসিআর। তবে এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা সহায়তা তহবিলে প্রয়োজনের অর্ধেকেরও কম অর্থ জমা পড়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here