ময়মনসিংহে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় প্রতিবাদ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিবাদ

এনামুল হক, ত্রিশাল প্রিতিনিধ:ময়মনসিংহে গোয়েন্দা (ডিবি) কর্মকর্তা আকরাম হোসেন ও তার টিম সদস্যদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ রবিবার (২৪ জানুয়ারী ) দুপুরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্রাব) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে ধরেন সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিক। তিনি দৈনিক আমাদের কণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি ও দৈনিক ময়মনসিংহ প্রতিদিনের সম্পাদক।

আরও পড়ুন>>>পৌরসভা নির্বাচন॥ হলফ নামায় ব্যয়ের অঙ্গিকার মানছেন না প্রার্থীরা

সংবাদ সম্মেলনে খায়রুল আলম রফিক বলেন, আমার সম্পাদনায় প্রকাশিত দৈনিক ময়মনসিংহ প্রতিদিন পত্রিকায় ডিবির অপকর্ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় আমার প্রতি ক্ষুব্ধ ছিল ডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এর জেরে ২০১৮ সালের ২৯ নভেম্বর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিপরীতে নিউ মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিকের সামনে থেকে আমাকে আটক করা হয়।

ডিবির এসআই আকরাম হোসেনসহ সাদা পোশাকধারী অজ্ঞাত ৭-৮ জন আমাকে চোখ বেঁধে একটি হায়েজ গাড়িতে তুলে নেন। গাড়িটি পুরাতন গোদারাঘাটের ওপারে চরাঞ্চলে যায়। তখন ডিবির এসআই আকরাম হোসেনের মোবাইল ফোনে অপর প্রান্ত থেকে একজন বলছেন, ‘রফিককে আটকের খবর সাংবাদিকরা জেনে গেছে। তাকে এ মুহূর্তে ক্রসফায়ারে দেয়া যাবে না। তাড়াতাড়ি তাকে ডিবি অফিসে নিয়ে আসো। ফোন লাউড স্পিকারে ছিল।

খায়রুল আলম রফিক বলেন, আমি কোনো অপরাধী না হয়েও ডিবি’র হাতে আটকের পর তিনদিন অবর্ণনীয় নির্যাতন সহ্য করেছি। ক্রসফায়ারে ব্যর্থ হয়ে আইসিটি আইনে মামলা দিয়ে আমাকে আদালতে পাঠায়। শুরু হলো আমার কারা জীবনের নতুন অধ্যায়। দুই মাস কারাভোগে আমার জীবনে আঁধার নেমে আসে। তিনি বলেন, গত ২২ ডিসেম্বর আমার চোখ বাঁধা নির্যাতনের ছবি ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে এসআই আকরাম এবং এএসআই জুয়েলসহ অন্যরা।

এতে আমি সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হই এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। গত ১৮ জানুয়ারি এসআই আকরাম এবং এএসআই জুয়েলসহ ৭-৮ জন ডিবি কর্মকর্তাকে আসামি করে ময়মনসিংহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একটি মামলা করেছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আকরাম হোসেন বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে খায়রুল আলম রফিককে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল। তাকে নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়।

ঘটনার দুই বছর পর তিনি আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তদন্তে যদি আমি দোষী হই তবে আমাকে যে শাস্তি দেওয়া হবে তা মেনে নেব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here