যশোরে ফের চাঙ্গা মদ বেঁচাকেনার সিন্ডিকেট

0
114
যশোরে ফের চাঙ্গা মদ বেঁচাকেনা
ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টারঃ যশোরে ফের চাঙ্গা মদ বেঁচাকেনার সিন্ডিকেট, ২০২০ সালে মদপানে প্রায় ৩০ জনের মৃত্যু হলে যশোরে মদ বিক্রি কিছুটা বন্ধ হয়। তারপর আবার ভিন্ন কৌশলে পুরোদমে যশোর শহরে মদ বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ন>>>সুনামগঞ্জ পৌর শহরে বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন

তবে এবার আলোচিত হাসান সিন্ডিকেট নয় নতুন গজিয়ে উঠা জাকির সিন্ডিকেট তৎপরতা চালাচ্ছে। এই সিন্ডিকেটের ১০ সদস্য নতুন কৌশলে চালিয়ে যাচ্ছে মদ বিকিকিনি।

আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর নজর এড়িয়ে এরা মাড়ুয়ামন্দির সংলগ্ন আবগারির ডিলারের কর্মচারী গৌর এর কাছ থেকে গ্যালন গ্যালন মদ তুলে তাতে ট্যাবলেট ও পানি মিশিয়ে সরবরাহ করছে খদ্দেরদের কাছে।

অনেকে বলছে হাসান সিন্ডিকেট একটি গন্ডির মধ্যে ব্যবসা করলেও এরা শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে বিশৃঙ্খলা হওয়ার আশঙ্কা করছে অনেকে। সেই সাথে চলছে হোম ডেলিভারিও।

অবশ্য যশোর সদর ফাঁড়ি পুলিশ এ ব্যাপারে কিছুই জানেনা বলে দাবি করেছে।

গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে বিষাক্ত মদ পান করে শহরে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়। মদকান্ডের পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। মামলাও হয়। গ্রেফতার হয়ে অনেকে জেল খাটে। এসময় বেশকিছুদিন থমকে ছিল মদ ব্যবসা । কিন্তু এরপর কৌশলে ঝালাইপট্টি বাবুবাজার এলাকায় এই সিন্ডিকেট শুরু করে মদের ব্যবসা। বেশ কিছুদিন চলছিল তাদের কর্মকান্ড। কিন্তু পত্রপত্রিকায় বিষয়টি ফাঁস হওয়ায় আইনশৃংখলা বাহিনী তৎপর হয়ে ওঠে। এসময় জাকির সিন্ডিকেটের সদস্য কোরবান আটক হওয়ার পর আবারো কিছুদিন বন্ধ থাকে এই অবৈধ ব্যবসা। সিন্ডিকেটও ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। কিন্তু তারা বসে থাকেনি। সুযোগ খুঁজতে থাকে কিভাবে আবারো ব্যবসা শুরু করা যায়।

একপর্যায়ে জাকিরের নেতৃত্বে সিন্ডিকেট আবারো ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইদানিং নানা কৌশলে নতুনভাবে মদের ব্যবসা শুরু করেছে। তাদের ব্যবসার ধরনও ভিন্ন রকম। প্রথমে বুঝে ওঠার উপায় নেই যে তারা মদের ব্যবসা করে থাকে।

এরমধ্যে সিন্ডিকেট সদস্য পাপ্পু তাড়িখানার গলিতে পেঁয়াজু আলুর চপ বিক্রির আড়ালে বিক্রি করছে মদ। গোপনে বাক্সের মধ্যে পানির বোতলে মদ রেখে সরবরাহ করছে সুযোগ বুঝে।

আরেক সদস্য সেলিম চায়ের দোকানের আড়ালে করছে মদ বিকিকিনি। ঝালাইপট্টির পতিতালয়ের সামনে রশিদ চায়ের দোকানের ফ্রিজের মধ্যে রেখে অন্যান্য পানীয়ের সাথে বোতলে রেখে মদ বিক্রি করে। আবার একইসাথে অনুমোদনহীন যৌন উত্তেজক পানীয় হর্সপাওয়ার ও ট্যাবলেট জাতীয় বিক্রি করছে।

আরেক সদস্য ফারুক চায়ের দোকানের আড়ালে একই পন্থায় মদ ও অন্যান্য দ্রব্য বিক্রি অব্যাহত রেখেছে।

সিন্ডিকেট সদস্য রাসেল বাবুবাজার পতিতালয়ের গেটের পাশে চায়ের দোকানের আড়ালে মদসহ অবৈধ মালামাল বিক্রির কাজে নিয়োজিত। পাশাপাশি পতিতালয়ে দালালি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। গ্রামগঞ্জ থেকে খদ্দেরদের ভুলভাল বুঝিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা।

পতিতালয়ের নাইটগার্ডের আড়ালে আনারুল ভ্রাম্যমাণ ভাবে মদ বিক্রি করে যাচ্ছে। তার পতিতালয়ে এক সর্দারণী বউ থাকায় অনেকটা নিরাপদে সেখানে মদ রেখে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরেক সদস্য ছোট মহসীন ও রহমান। তারা মোবাইলের মাধ্যমে খরিদ্দারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মদ পৌছে দিচ্ছে। তাদের কোন নির্দ্দিষ্ট বসার স্থান নেই।

সিন্ডিকেটের সদস্য ইলেকট্রিক মিস্ত্রি মনির ভ্যাসপায় করে মদ আনা নেয়ার কাজ করে যাচ্ছে। তার দাবি ‘সে মদ আনা নেয়া করলেও ব্যবসা করে না, পান করে থাকে’।

এই সিন্ডিকেটের পালের গোদা জাকির আছে মহাদাপটে। সদরের ইছালী গ্রামে তার বাড়ি। কিন্তু সারাক্ষণ পড়ে থাকে পতিতালয় এলাকায়। সকালে চোখ মুছতে মুছতে ঝালাইপট্টি ও বাবুবাজার এলাকায় আসে আর সন্ধ্যার পর গ্রামে ফেরে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাবুবাজার পতিতালয়ের যৌনকর্মী নুপুরের কথিত স্বামী এই জাকির দালারির সাথেও জড়িত। সে নিজেই মদ হোম ডেলিভারি ব্যবস্থা চালু করেছে। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে ফোন করলেই বাংলামদ চাহিদা অনুযায়ি পৌছে যাচ্ছে খদ্দেরের বাড়ি অথবা প্রয়োজনীয় স্থানে।

এছাড়াও জাকির প্রতিদিন সন্ধ্যায় তার ব্যবহৃত মোটর সাইকেলে করে বাজারের ব্যাগে মদ নিয়ে ইছালী চলে যায়। তারপর সেখান থেকে ইছালির বিভিন্ন স্পটে মদ বিক্রির জন্য পাঠিয়ে দেয়। এছাড়া তার সদস্যদের নানাভাবে কাজে লাগাচ্ছে জাকির। এছাড়া জাকির শহর থেকে মদ নিয়ে গ্রামে জামাই নিপুনের মাধ্যমে খদ্দেরদের কাছে সরবরাহ করছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

সিন্ডিকেট সদস্য জাকির বলেন, আমি এখন এ ব্যবসা করিনা। করোনার আগে করতাম। এসব ব্যাপারে লেখার দরকার নেই।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here