স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে যশোরের ঈদের বাজার, অমান্য স্বাস্থ্যবিধি

0
127
স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে যশোরের ঈদের বাজার

তরিকুল রায়হান,যশোরঃ স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়েই কেনাকাটা করছেন লোকজন। শারীরিক বা নিরাপদ কোনো দূরত্ব মানার অবকাশ যেন নেই ক্রেতাদের মধ্যে। হাত ধোয়া বা হ্যান্ড স্যানিটাইজড করার জন্যও নেই কোনো সুব্যবস্থা। স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলছে কেনাবেচা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শহরের বিভিন্ন সড়কে এবং মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিতে দেখা গেলেও জনতার চাপে তারা অসহায় হয়ে পড়েছেন।

আরও পড়ুন>>>বেনাপোলে পৌর স্যানেটারী ইন্সপেক্টর রাশিদা’র বিরুদ্ধে কোয়ারেন্টাইন সিট বাণিজ্যের অভিযোগ 

বুধবার (৫ মে) সরেজমিনে যশোর শহরের মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা যায়, বাজারে তৈরি পোশাক, দর্জির দোকান, শাড়ি কাপড়, জুতা স্যান্ডেল ও কসমেটিকসের দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। ধাক্কাধাক্কি করেও পণ্য কিনছেন ক্রেতারা। এদিকে করোনা ভাইরাসকে পুঁজি করে দোকান বন্ধ হয়ে যাবে এমন কথা বলে দ্রুত বিক্রি করছে বিক্রেতারা। কোনো দরদাম ছাড়াই জামা-কাপড় কিনতে দেখা গেছে ক্রেতাদের। ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে নারী ক্রেতাদের চাপ দোকানগুলোতে সবচেয়ে বেশি লক্ষণীয়।

আরও পড়ুন>>>পূর্ব সুন্দরবনের দাসে ভারানি এলাকায় আবার আগুন

এদিকে মার্কেটগুলোতে মানুষের উপচেপড়া ভীড় দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। শারীরিক সুরক্ষার কথা ভুলে গিয়ে একে অপরের গা-ঘেঁষে কেনাকাটায় মগ্ন হয়ে পড়েছেন তারা। দেখে মনে হয় ঈদ উৎসবের আনন্দে ভুলে গেছেন লকডাউনের কথা। অনেকে বলছেন, যেহেতু আমরা সচেতন নই তাই কোনো কিছু দিয়েই মানুষের ভিড় ঠেকিয়ে রাখা যাবে না। তবে দোকানে নিরাপদ দূরত্ব মেনে কেনাবেচা করার জন্য দোকানদারদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষথেকে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

করোনার সংক্রমণের শঙ্কা যেন কেনাটাকা করতে আসা মানুষের কোনও তোয়াক্কা নেই। মানুষজন কেবল কোনোমতে মাস্কটা ঝুলিয়ে কেনাকাটা করতে ব্যস্ত। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শপিং করার কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দিলেও তা যেন কারোরই কানে ঢুকছে না। সামাজিক দূরত্বের বিধিনিষেধ মানছেন না কেউ।ঈদে কেনাকাটা করতে আসা বেশিরভাগেরই সঙ্গে মাস্ক থাকলেও তা সঠিকভাবে পরা নেই। কারোরটা থুতনিতে, কারোরটা কেবল মুখ ঢেকে নাক বাইরে রাখা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোজার অর্ধেক সময় আমরা ব্যবসা করতে পারিনি। তারপর গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অন্যান্য উপজেলা থেকে কাস্টমার আসতে পারছেন না। যার জন্য আমরা সেসব ক্রেতা বঞ্চিত হচ্ছি। নাম না প্রকাশ করার শর্তে একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, একে তো ব্যবসা মন্দা, তারপর শহরের গাড়িখানাস্থ পুলিশ ক্লাব মাঠে সম্প্রতি শুরু হওয়া অস্থায়ী বাজারের নামে পণ্যমেলা শুরু হয়েছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তপে কামনা করেছেন তারা।

সুমনা হক নামে এক তরুণী বলেন, এমনিতে রোজার অর্ধেক চলে গেছে। শুরুর দিকে মার্কেট বন্ধ থাকায় ঈদের জামা কেনা হয়নি। এরপরে তো টেইলার কাপড় নেবে না। তাই তাড়াহুড়ো করে গজ কাপড় ও থ্রিপিস কিনলাম। এবার যাবো টেইলার্সে।

সরেজমিনে যশোরের বাজারে দেখা যায়, শিশু পোশাকের দোকানে বেশি ভিড়। শহরের বারান্দি মোল্যাপাড়ার বাসিন্দা জিল্লুর রশিদ বলেন, বড়দের কথা তো বাদই দিলাম। তবে শিশুদের ঈদে নতুন পোশাক না হলে কীভাবে হয়। জানি না ঈদের সময় কি পরিস্থিতি হয়। তারপরও নতুন পোশাক তো লাগে।

গার্মেন্টস ব্যবসায়ী দেখা ফ্যাশনের প্রোপাইটর মান্না দে লিটু বলেন, গেল ২/৪ দিন বেচাকেনা বেড়েছে। তবে রাত ৮ টায় দোকান বন্ধ করার নির্দেশ থাকায় ইফতারের পরে কোনা কাস্টমার বাজার মুখি হচ্ছেন না। তিনি আরও বলেন এবার দেশি পোশাকের চাহিদা বেশি। ভিসা বন্ধ থাকায় ইন্ডিয়ান পোশাক আনতে পারেনি ব্যবসায়ীরা। তবে লকডাউনের কারণে ঢাকায় গিয়ে ঈদের পোশাক এবার আনা সম্ভব হয়নি। মোবাইল বা ল্যাবটপে পোশাকের ছবি বা ক্যাটালক দেখে পোশাকের অর্ডার দিতে হচ্ছে এবং তা কুরিয়ারে আসছে। এ ব্যবসায়ী আরও বলেন, এবছর পোশাকের দাম রিজেনেবল। রোজার প্রথম ১৫ দিনে ব্যবসা ভালো হয়। সেটা না পুষাতে পারলেও শেষ কদিনে বিক্রি ভালো হবে বলে আশা করছি।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here